হেমন্ত গান

দিক হারালো সময় মোহে
দেয়াল জুড়ে ছায়া
সকাল ছড়ায় শুভ্র শিশির
রাত্রি পেরোয় মায়া
বাতাস কার শব্দ শুনে
আয়ুর অংক কষে
খুঁজতে গিয়ে দূর নীলিমা
হারায় নিরুদ্দেশে
আমি আমার ছায়ায় একা
মোম ছুঁয়েছে আলো
স্মৃতি নামক অসুখ আছে
তাই লাগেনা ভালো
শংকিত মন জ্যোৎস্নাবিলাস
কুয়োর ভেতর থাকি
কাঁদলেই মুখ বেড়িয়ে পড়ে
মুখোশ কোথায় রাখি?
ভুল ভেঙেছে কথার কথায়
ছাতিম ফুলের পাশে
তোমার চোখে হেমন্ত গান
মৃত্যু হয়ে আসে

Advertisements

নামহীন

অমন মেঘ তোমাকে মানায়
স্বপ্নের ঘোর স্মৃতিতে যাপন
আলোর মতো যদি দাও দেখা
বৃষ্টি হয়ে এসে ছুঁয়ে যেও মন!
বয়ে যায় হাওয়া নদীর এধারে
ওপারে জমছে কথার পাহাড়
সন্ধ্যের ফুল কতো গন্ধ ছড়ায়
বিরহ আজও তাই প্রিয় উপহার!
অমন আকাশ যার চোখের তারায়
তার তরে এই বুকেতে কাঁপন
দ্যাখো এইখানে ছুঁয়ে আছে রোদ
আমার ঘর দোর কিম্বা উঠোন
অমন জ্যোৎস্নারাত ভয় ক্রোধহীন
মনে পড়ে সেই যে সেই কাশফুল
ক্লান্ত ছায়া শুধু ঘুরে ঘুরে মরে
আমি আজও বিরহে ব্যাকুল!

বিলাপ

এই পথ এই যে ঝরে যাওয়া ফুল
এই নিশাচর পাখি হৃদয় ব্যাকুল
আমি যার চোখে খুঁজি দিশা
মেঘ এসে উঁকি দেয় ঘুমের পিপাসা
এই নদী নিরবধি বেদনার মতো
ভালোবাসে যেই সেই দেয় ক্ষত!
আমি বাঁচি তার স্মৃতি ঘিরে
এই হাওয়া না পাওয়া কাদে রোদ্দুরে
এই আলো হতাশায় তিরতির কাপে
এই ভ্রম মন্থর হৃদয় মাপে
সন্ধ্যে পেরনো কথা অতি অনাদর
এখনো সে চোখ দেখি ঘুমের ভেতর
এই যে বিলাপ সেও মন নিয়ে কাঁদে
বিষাদের হাওয়া বয়ে চলেছে অবাধে!

ভালোবাসা পাখী

কবেকার কথা খুইয়ে জানালার ধারে
আলতো বিকেল ছুঁয়ে কাঁদি নিঃসাড়ে
সব ভুলে কাশফুলে ভালোবাসা পাখী
নিদাঘ সন্ধ্যে মেখে করে ডাকাডাকি
তবে তার মন থেকে খসে পড়া নদী
হারানো প্রেম নিয়ে ফিরে আসে যদি
পোড়া ডানা ওড়া মানা বাতাসের ঢল
চোখের ভেতরে রাখি বলো কতো জল!

প্রহরা

বহুবার হারিয়েছে ঠিকই…
কতবার পায়নি তো খুঁজে
মন মোর শামুকের খোলে
গুটিয়েছে নিজ থেকে নিজে
কতবার নিবে গ্যাছে আলো
দুঃখ মেশানো ঘর-বাড়ি
বহু দ্বিধাতে গেছি ডুবে
সব ভুলে মেঘে দেই পাড়ি
হুট করে রাত নামে চোখে
বিশদে বিষাদ কাঁদে একা
বহুবার হারিয়েছে ঠিকই
কতবার হয়েছে তো দেখা!
ভ্রমে আঁকা আমি তুমি খেলা
চিঠি জানে সবটুকু ব্যাথা
এইখানে আলো এলে পরে
ভেঙে যাবে যত নীরবতা…
এই দ্যাখো ঘুম জেগে আছে
ওই পাড়ে পাখী ডেকে সারা
সেই দিন গ্যাছে বহুদিন
স্মৃতি আজও দিচ্ছে প্রহরা!

নিরুদ্দেশ

কোথাও যাবার নেই ভাবলেই মনে পড়ে বহুকাল আগে থেকেই তো নিরুদ্দেশ আমি, তাছাড়া বলা হয়নি বলে কত কত কথা যে ভাবি সে সবের কি হদিস আছে? অথচ আমার দুঃখেরা আশ্রয় খোঁজে না, তারে ভুল বুঝতে গিয়ে মনে হয় এ মেঘ তো কিছুক্ষন পরই কেটে যাবে, তবু মনেতে সন্ধ্যে নামে…চেনা ফুলের গন্ধে নিজেকে ডুবিয়ে নিতে নিতে মনে হয় এ যেন কিছুটা মৃত্যুর দিকে গিয়েও আরেকটিবার বেঁচে ওঠার ইচ্ছে!

মাতৃ বন্দনা

এই নুয়েছি এই ছুঁয়েছি তোমায়
এই তোমারে চোখের মাঝে রাখি
এমন মায়ায় বেঁধে রেখো যেন …
চিরটা কাল এমনি ডুবে থাকি
এমন শরত শিশির ভেজা দিনে
তোমার পরশ আমার মনে থাকুক
ওই চেনা মুখ সকল দুঃখ ভোলায়
তোমার গানে ভোরের পাখি ডাকুক
ওগো আমার মেঘ জমানো বেলা
দিন ফুরোলে রাত্রি আসে নেমে
জানলাবিহীন এই ছোট্ট ঘরে
ছায়া হয়ে পাশেই থেকো থেমে
এমনিভাবে মনের মাঝে থেকো
চোখের পাতায় সকল ক্লান্তি শেষে
ভেতর বাহির বিষন্নতা ধুয়ে
আবার এসো মাগো ভালোবেসে ৷

শোকগাঁথা

কখন আসে যে শরৎ!
সকাল রাখেনা সে খোঁজ
যা বোঝার বুঝেছি আমি
শিউলি ফুটছে না রোজ
কেন মেঘ রাত জেগে থাকে
বৃষ্টিটা ঝরে পড়ে একা
এই তারে মনে পড়ে খুব
এই আবার মনে না থাকা!
কি ভেবে হয়ে যাই সারা
চেনা নদী অচেনা জোয়ার
তারই ছায়াতলে বসে ভাবি
এ কেমন ভ্রান্তি আমার !
দিন শেষে পাখি ফেরে নীড়ে
আমি দেখি আলো নেভা আলো
বহুকাল আসো নি এখানে
তাই বলে বাসি নি কি ভালো?
রাতের আঁধার গাঢ় হয়
আমি হাত রাখি তার হাতে
এ জীবন এক শোকগাঁথা
হেঁটে চলে বিরহের সাথে..

ভাণ

রঙের মধ্যে থেকে উঁকি দেয় মেঘ, আজকাল সব রঙেই মেঘ দেখছি আমি…সমস্যা মনে হচ্ছে ভয়াবহ! তবে সেটাকে গায়ে মেখে বসে থাকলে তো চলবে না, অতঃপর আমি স্বপ্নের মধ্যে চলে গেলাম, যেখানে চেরাপুঞ্জি যাবার একটা টিকিট ও কাটা আছে, তবে কিনা এটা পুজোর মরশুম, তাই কিছুতেই টিকিট কনফার্ম হচ্ছে না! আমার টিকিটের উপরে ৪৩৫ ওয়েটিং দেখাচ্ছে, তার মানে আমি ৪৩৫ জনের পরে চান্স পাবো? আহা এটা ভেবেও মনে মনে কিছুটা হলে ও স্বান্তনা পেয়েছি, তবে এতকিছুর পরেও আমার দুঃখ ফুরোলো না দেখে আমি চট করে একটা দাঁড়িপাল্লা কিনে ফেললাম, আর বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে না ঢুকে সেটা নিয়ে সোজা উঠে গেলাম ছাদে… আমার মনেতে অদ্ভুত একটা শিহরন খেলে গেল… মনে হলো আমি যেন সুখের ঘ্রান পাচ্ছি! এই মূহুর্তে দাঁড়িপাল্লাটা হাতে নিয়ে আমি চুপচাপ দাড়িয়ে আছি ছাদের একবারে শেষ প্রান্তে, যেখানে থেকে একটা ঘ্রান আমার খুব কাছে, কিম্বা হতে পারে একেবারে গা ঘেঁসে দাড়িয়ে আছে, আর আমি তাকে ছোঁয়ার জন্যে উদগ্রীব, এই তো আর একটু…তারপর ঘটে গেলো সেই অঘটন,হঠাৎ আমার হাত থেকে দাঁড়িপাল্লাটা পরে গেল, ১১ তলার ছাঁদ থেকে আমার সুখ দুঃখ হাঁসি কান্না মেঘ বৃষ্টি সব কিছুই নিমিষে হারিয়ে যাচ্ছে, আমি এখন কি করবো? ওই দাঁড়িপাল্লাটা কে বাঁচাবার ক্ষমতা কি আমার আছে নাকি নেই? ভীষনভাবে দোটানার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমি, কেন জানি ওর জন্যে দুঃখ পাচ্ছি, অনেক বেশীই দুঃখ পাচ্ছি কি? আচ্ছা এই দুঃখের ভাণ করতে করতে আমার ফেলে আসা বা আসন্ন সুখগুলোও সব দুঃখ হয়ে যাচ্ছে নাতো?