খামখেয়ালী মেঘ

আমার মনের ভেতর মেঘ
বৃষ্টি বড় ভয়
মাঝে মধ্যেই খামখেয়ালে
কাঁদতে ইচ্ছে হয়
আমার বুকের ভেতর নদী
যার মধ্যিখানে চর
স্বপ্ন জুড়ে আত্মহনন
আর বিষণ্ণতার খড়
আমার ইচ্ছে ডানায় রোদ
ভুগি প্রবল অভিমানে
আরও একটা শ্রাবণ যায়
আমি নেই কোনখানে

নীলরঙা খাম

নিকটে মেঘ বৃষ্টি ব্যাকুল
উদাস দুপুর বেলা
তবু এ প্রেম দ্বিধান্বিতা
ছায়ার সাথে খেলা…
এই কথারা ভীষণ ভীতু
ব্যথা থাকে অন্তর ছুঁয়ে
ভেজা এ শহর জানে
কতো রোদ ফেলেছে সে খুইয়ে
ক্রমশ বিকেল নামে
একই রঙ সেই চেনা নাম
যেখানে ভেসে গ্যাছে তার চিঠি
পরিচিত নীলরঙা খাম

পুণ্য

কিন্তু তেমন কোন উপায় ও তো নেই আগের জন্মের সে পুণ্যের হিসেব করবার, অথচ আমি অনেকদিন ধরে আর নতুন কোন পুণ্য করতেই পারছি না, এ কেমন ভ্রান্তি আমার টাইপ কবিতা পড়ে আয়ুক্ষয় করে যাচ্ছি, নিজের ভুলগুলো বুঝতে চাইছি না, তবে আমি জানি তালাবন্ধ ঘরের ওপাশে একটা সুন্দর পাহাড় অথবা সমুদ্র আছে…একটা ফুটফুটে বিকেল কিম্বা অতিমাত্রায় সৌন্দর্য গোধূলি আছে, এসব আমার বিশ্বাস, তুমি চাইলে সে বিশ্বাসে ছাই ভস্ম ঢেলে দিতে পারো…কেননা আমি গতজন্মের পুণ্যের ভারে দিন দিন অহংকারী হয়ে যাচ্ছি, তুমি জানো না হয়তো…সে জন্মের পর থেকে আর কখনো কোন পুণ্য আমি করতে পারিনি!!

পথ

আচ্ছা কেমন লাগে এই চলে যাওয়া পথ দিয়ে দ্বিধাহীন চলে গেলে? যদি ফিরে আসা না থাকে, অথবা না থাকে কোন তাড়া কিম্বা কোন আকুলতা? কি হতো কেবল মরে যাবো ভেবেই বেঁচে থাকার সময়গুলো অক্লেশে পার করে দিলে? প্রতি প্রান তবে কি নিষ্প্রাণ মনে হতো না! আসলে আমরা ভালোবাসি নিজেকে…কিছুটা নিজের প্রয়োজনেই হয়তো তোমাকে ওকে তাকে চলে যাওয়া পথের অনেক কে, তবে সে ভালোবাসা নিজেকেই বেশি…দায় নেই খেদ আছে, অথচ একদিন এই যে অপরকে ভালোবেসে যাওয়া টাও জীবনের চরমতম কষ্টের কারন হয়ে পড়ে হয়তো, তবু তুমি বলবে আমি নিজের থেকে তোমাকে বেশি ভালোবাসি, হায়! কিন্তু আমি যতবার ভাবি, ততবারই এর উত্তরে কিছুই পাই না জানো?…ভালোবাসা সম্পর্কে আদতে আমি কিছুই জানি না, কেবল কিছু কথা বা ভাবনা বলতে বা ভাবতে ভালো লাগে বলেই ভাবি বা বলি… বুঝলে?

শ্রাবণ মেঘলা দিন

শ্রাবণ মেঘলা এই দিনে
আজ মুহূর্তেরা স্তব্ধ হোক
পাতার ভেলায় ভেসে যায় যাক বেলা
পাখিরা ভুলে যাক শোক
আজ স্মৃতি যায় যাক উড়ে
বাঁশি বাজুক অচেনা সুরে
কোন অপেক্ষার অন্তে এসে
থেমে থাকুক আমার চোখ
হয়তো চিনবো না নিজেকে
প্রহর বাজবে বুকের মাঝে
বিষাদ ভাসিয়ে দীঘির জলে
কথা গুলো ভাষাহীন হোক!
আজ প্রেম মেখে নির্জনে
জেগে থাকবো তার মনে
তবু শিকড় ছিন্ন জীবন
বাঁধুক সহজিয়া চোখ…

পরজনমে

জমে থাকা ইচ্ছেরা অন্তরালে গিয়ে তোঁকে খোঁজে… সে খোঁজ যা আজ থেকে নয় এ খোঁজ বহুকাল আগের, এখন সেসব যদিও স্মৃতি রোদ মাখে নির্জনে… আর আমি তার পাশে বসে থাকি…বসে থাকতে ভালো লাগে তাই বসি,পরক্ষনে মেঘ আসে অন্তরে… হৃদয় ভাসে মৃদু মন্দ বাতাসে, আর তারপর? দিনরাত বৃষ্টি একটানা… বিরামহীন! বনমালী গো পরজনমে তুমি মেঘ হইয়ো!

গন্তব্য

দিনশেষে সেই মেঘবিলাসি থাকি
প্রশ্ন জাগে তুমি আমার কে?
এ জগৎ টা শূন্যতারই নাম
আজন্ম তাই দুঃখ পুষে রাখি
চিঠির জবাব হয়না কভু দেয়া
কোথায় যেন তোমার ছায়া দেখি
ছুটছে সময় আরও দ্রুত বেগে
কেন অমন করে তোমায় মনে রাখি?
স্মৃতি সেও প্রবঞ্চনা করে
অন্তরে শোক বাহির লাগে পোড়া
হাওয়ার সাথে বিষণ্ণতা আসে
আমার জাগে একলা হবার তাড়া

জন্মান্তরবাদ

গতজন্মের বিষণ্ণতা মেঘ হয়েই ফিরে এসেছে এই জনমে…ভুলে যাওয়া উচিৎ ছিল তারে, মনে পড়েনা মাঝে মধ্যে এ কথা তো ঠিক… কিন্তু আজও কেমন মনে হল ভুলিনি একেবারে! অবচেতনে ছায়া আছে তার, লুকিয়ে রাখা বিষাদ যেমন ফিরে আসে বারবার…অথচ সব ইচ্ছেগুলো পুড়ে যাচ্ছে রোদে, আসছে শ্রাবণ আমি তাও বিশ্বাস রাখি জন্মান্তরবাদে!!

হারানো সংবাদ

মেঘবিলাসি মন আমার প্রায়শই দিক ভুল করে…যেদিক খুশি যেতে পারলেও কেন জানি যায় না কোথাও, অনেকক্ষণ একই যায়গায় থেকে থেকে বিষণ্ণতায় আড়মোড়া ভাঙে এই যা…হায়রে আনমনা,একূল ওকূল ছাপিয়ে দুকূল ভেসে যায় যে নদী তার বুকেও জমেছে দ্যাখ কতোখানি শূন্যতা! শোকের গভীরে লুকোনো যা কিছু স্বস্তি আর ক্ষতের আড়ালে যেটুকু ভুলের অবসান হয় বা হয় না, তার কাছে এই চাঁদ ওঠা না ওঠার হিসেব কতোটা অবান্তর ভাবতে পারিস? অথচ রাতের সাথে স্বপ্নের সম্বন্ধ আর স্বপ্নের ভেতর চাঁদের হারিয়ে যাওয়া বা আত্মঘাতী হওয়ার কোন যোগসাজশ ছিল কিনা জানা যায় নি…

এবং মেঘ

অনেক হলো মেঘের কথা
এবার তবে ছাড়ি…
তুমি হইয়ো আমার চোখে
একটা স্মৃতি বাড়ি
অনেক হলো পাখির ব্যাথা
ভাঙা পূরোন সিঁড়ি
তুমি হইয়ো নীরব রাতের
খানিক সুদূরে খড়খড়ি
অনেক হলো মন হারানো
বাতাসের গা বেয়ে
তুমি হয়ে ভালোবাসা
এসো প্রেমের মতো ধেয়ে
অনেক হলো ইচ্ছে মৃত্যু
ব্যাকুল দিবস যাপন
তুমি হইয়ো সেই তুমিটা
যে বহুযুগের আপন..